বাসার ড্রয়িং রুমের ডাইনিং
টেবিলের উপরে বসে আছে অলিন।
বসে বসে গভীরভাবে কিছু একটা
ভাবছে আর মাঝে মাঝে তার চোখ
থেকে অঝোরে জল বেরিয়ে
যাচ্ছে। আবার মাঝে মাঝে আর
বেরুচ্ছে না। ঠিক বর্ষাকালে এই
রোদ এই বৃষ্টির মতো।
.
একমাস আগে তো সে এরকম ছিলো
না? তবে সে এরকম হয়ে গেলো
কেনো? নাকি পরিস্থিতি তাকে
বাধ্য করেছে? কিছুটা আনমনে
ভাবছে অলিন।
.
একমাস আগে,
.
রাতে খুব ক্লান্ত শরীর নিয়ে অফিস
থেকে ফিরলো অলিন। দরজাতে
টোক দিতেই পাচঁ মিনিট পর দরজা
খুললো নীলিমা।
>কি হলো এতো দেরী হলো
কেনো? (অলিন)
>আসতে আসতে দেরী তো হবেই
আমি কি প্লেন নাকি? (নীলিমা)
>নীলিমা প্লিজ এখন ঝগড়া করবা
না ভালো লাগছে না।
>ওওও আমি এখন ঝগড়া করি তাই নাহ?
>নীলিমা Stop! Too Much.
>হুম এখন তো আমি অতিরিক্তই করি।
পুরোনো হয়ে গেছি সেইজন্য।
>ওই তোমারে কইছি না মেজাজ
খারাপ করবা না। ক্ষুদা লাগছে
খাবার দাও।
>পারবো না বেড়ে খাও।
(নীলিমা)
>আচ্ছা খেয়ে নিবো এখন সামনে
থেকে যাও। Get Lost.
.
বিছানায় শুয়ে নিজে নিজে
কাদঁছে নীলিমা। অলিন দিন দিন
কিরকম যেনো হয়ে যাচ্ছে। আগের
মতো তাকে ভালবাসে না। বরং
বিরক্তিভাব প্রকাশ করে। আজ
অলিনের আচরনে কষ্ট পেয়েছে।
Get Lost বলাতে খুব কষ্ট পেয়েছে।
.
ক্লান্ত অবস্থায় সোফায় বসে অলিন
ভাবতে লাগলো নীলিমা দিন দিন
এমন হয়ে যাচ্ছে কেনো? ওর কথা
বুঝতেই চায়। শুধু ভূল বুঝে।
মেয়েটাতো আগে এরকম ছিলো না
এখন কেনো এরকম হয়ে গেলো?
ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত শরীরে
একসময় ঘুমিয়ে পড়লো অলিন।
.
রাতে ঠান্ডা পড়ায় নীলিমার ঘুম
ভেঙ্গে গেলো, পাশে দেখলো
অলিন নেই। রান্নাঘরে গিয়ে
দেখলো অলিন ভাত খায় নি,
ঢাকনা দিয়ে রেখেছে। ডাইনিং
রুমের সোফায় শুয়ে ঠান্ডায় থর থর
করে কাপঁছে অলিন। ঘুমের মধ্যে
তাকে খুব নিষ্পাপ লাগে। এই
নিষ্পাপ মুখটার জন্য নীলিমা
সবকিছু করতে রাজী আছে। কিন্তু
অলিন তো তাকে এখন চায় না। সে
নীলিমার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ
করে। হয়তো তাকে আর চায় না।
"ঠিক আছে অলিন আমি চলে যাবো
আর আসবো না তোমায় বিরক্ত
করতে" ভাবতে ভাবতে ঢুকরে ঢুকরে
কেদেঁ উঠলো নীলিমা। রুম থেকে
একটা কাথা এনে অলিনের গায়ে
জড়িয়ে দিয়ে চলে গেলো
নীলিমা।
.
সকাল ঘুম থেকে উঠে নাস্তা
তৈরী করে রেখে দিলো
নীলিমা। আজ থেকে সে আর
বিরক্ত করবে না অলিনকে। আজ
অনেকক্ষন ধরে যত্ন করে অলিনের
জন্য পিঠা বানিয়েছে সে।
ছেলেটা পিঠা খেতে
ভালবাসে। হয়তো আজ থেকে
নীলিমাকে আর পিঠা তৈরী
করতে হবে না। রেডী হয়ে বাবার
বাড়ির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়লো
নীলিমা।
আসার সময় অলিনের নিষ্পাপ মুখের
দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে
বেড়িয়ে পড়লো এখানে আর থাকা
যাবে না নয়তো মায়ায় পড়ে
যাবে নীলিমা।
.
ঘুম থেকে উঠে অলিন দেখলো
দরজা খোলা বাসায় নীলিমা
নেই। টেবিলে দেখতে পেলো
তার জন্য নাস্তা তৈরী করা। তার
পাশে একটা চিঠি,
.
~আমি তোমার জনূয বোঝা হয়ে
থাকতে চাইনি। জানি না তুমি
আমার প্রতি বিরক্তি কেনো? তবে
আমি চাই তুমি সব সময় ভাল থাকো।
তাই নিজে থেকেই চলে আসলাম।
-ইতি তোমার নীলিমা (হয়তো আজ
থেকে নেই)
.
চিঠিটা পড়ে প্রায় পাগলের মতো
হয়ে গেলো অলিন। রাস্তায়
রাস্তায় দৌড়াতে থাকলো সে
আর নীলিমা বলে চিৎকার করতে
লাগলো সে।
অঝোরে কাদঁতে লাগলো সে।
মেয়েটাতো তার কাছে কিছু চায়
নি। শুধু চেয়েছিলো একটু সময়।
সেটাও দিতে পারলাম না বরং
তার সাথে কঠোর আচরন করলাম।
একসময় রাস্তায় বসে পড়লো অলিন
আর প্রচন্ড চিৎকারে কিদঁতে
থাকলো সে। রাস্তার মানুষজন
তারদিকে তাকিয়ে আছে অথচ সে
দিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।
.
বাসা থেকে আসার পর একটু ও ভাল
লাগছে না নীলিমার। বারবৃর
অলিনের নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখটা
বারবার চোখে ভাসছে। হঠাৎ
নীলিমার মনে হলো সে ছাড়া
তো অলিনের কেউ নেই। সে
থাকবে কি করে খাবে কি?
মুহূর্তেই নীলিমা কেদেঁ উঠলো।
রওনা দিলো বাসার দিকে কেননা
তার পরিচয় বাবার বাড়ি নয়,
স্বামীর বাড়ি।
.
বাসায় ফেরার পথে রাস্তায় একটা
টুলে বসে থাকা ছেলের দিকে
লক্ষ্য করলো নীলিমা। ছেলেটা
কাদঁছে। ছেলেটা আর কেউ নয়
স্বয়ং অলিন। তাড়াতাড়ি
সি.এন.জি থেকে নেমে এক দৌড়ে
চলে গেলো অলিনের কাছে।
কিছুটা অবাক হলো অলিন। মূহূর্তেই
নীলিমা তাকে জড়িয়ে ধরলো।
সরি অলিন আমি খুবি সরি। প্লিজ
আমায় ক্ষমা করে দাও।
-সরি পাগলী (ছোট্ট স্বরে একবার
বললো অলিন)
.
[ স্বামী-স্ত্রী মাঝে কখনো কখনো
সমস্যা থাকেই সেজন্য ছেড়ে
যাওয়া উচিৎ নয়, দুজন দুজনকে বুঝা
উচিৎ ]
সরাসরি চু***র ভিড়িও দেখতে ভিজিট করো : http://corneey.com/wBOcq2
